এক শিকারি ছোট একটি পাখি শিকার করেছিলো।পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিলো। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে লাগলো যে, তুমি অনেক বড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো, অনেক ভাল্লুক মেরেছো, এই সেই। আমি একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে তুমি কী মজা পাবে ?
আমাকে খেলে তো তোমার পেটেও ভরবে না।
তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও।
👉তোমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শোনাবো যা তোমার সারাজীবন কাজে লাগবে। এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিলো যে শিকারির মন নরম হয়ে গেল। কারণ প্রশংসা পেতে সবাই পছন্দ করে।
আরেকজনকে গলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে প্রশংসা করা।
সে ভেবে দেখলো, ঠিকই তো।
এত ছোট পাখি খেয়ে তো কোনো লাভ নেই।
তার চেয়ে শুনি, পাখিটা কী বলতে চায়।
হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে।
শিকারি রাজি হওয়ায় পাখিটি বললো,
আমি প্রথম বাক্যটি বলবো তোমার হাতের ওপর বসে, দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো এই গাছের ডালে বসে,
তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে।
শিকারি বললো, ঠিক আছে।
🌟পাখি বললো, ‘কখনো অলীক কল্পনা করো না, যা বাস্তব নয় সেটা কখনো বিশ্বাস করো না’।
শিকারি বললো, খুব ঠিক কথা। সত্যিই তাই। কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস করতে নেই। পাখি বললো, এবার আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও।
🌟আমি দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো। শিকারি ছেড়ে দিলো। গাছের ডালে উঠে পাখি বললো, ‘যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না।’ শিকারি বললো, এটাও ঠিক। যা আর আমার নেই, তা নিয়ে আফসোস করা তো বোকামি। পাখি এবার মগডালে উঠলো। শিকারি বললো,
🌟এবার তৃতীয় উপদেশটি বল। পাখি বললো, তৃতীয়টি বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি উপদেশে থেকে তুমি কিছু শিখেছ কিনা।
পাখিটি বললো, আমার পেটে আছে ২০০ গ্রাম ওজনের একটি মুক্তো। শুনে শিকারি খুব আফসোস করতে লাগল।
হায় হায়! এ আমি কী করলাম। ধনী হওয়ার এত সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলাম! বলেই পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের দিকে লাফাতে লাগলো।
কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে। সে হাসলো। বললো, দেখ, আমি আগেই বলেছিলাম, অবাস্তব কথা কখনো বিশ্বাস করো না।
আমার ওজনই ১০০ গ্রাম। আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের মুক্তো থাকবে কীভাবে? বলেছিলাম, যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না। কিন্তু তুমি তা-ই করছো।
তোমাকে আর কোনো উপদেশ দেয়া অর্থহীন। কারণ অধিকাংশ মানুষের মতো তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছো। কিন্তু তা থেকে কিছুই শিখনি।