প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।

১৫ বছরের কম বয়সী যে কেউ যদি টানা ৪০ দিন জামায়াতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করে তবে প্রত্যেককেই একটি করে বাই সাইকেল উপহার দেয়া হবে।

তার এই উদ্যোগে তুরস্কে ব্যপক সাড়া পরেছে। তরুণ প্রজন্মকে মসজিদমুখী করে তাদের নৈতিকভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। এরদোগানের এই কর্মসূচিতে তুরস্কের অবিভাবকগণও অত্যন্ত খুশী।

এরদোগান ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে রোমান হরফের বদলে আরবী হরফে তুর্কী লেখা সহ হিজাব ও অন্যন্য ধর্মীয় বিষয়ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তিনি তুরস্ককে তার ইসলামী স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর আমদের বাংলাদেশে ঘটছে ঠিক উল্টাটা। এখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, উৎসব সহ সব ক্ষেত্রেই ইসলামকে বাদ দিয়ে সেকুলারকরণ করা হচ্ছে। যার ফলে—

তুরস্ক যখন সত্যিকারের অত্যাধুনিক যুদ্ধের ড্রোন, যে ড্রোন থেকে মিসাইল ছোড়া হয়, বানিয়ে তা রপ্তানি করছে, তখন আমরা ইউনিভার্সিটি লেভেলে বিদেশের স্কুল লেভেলের কোয়াড কপ্টার বানিয়ে স্যারের সাথে ফটোসেশন করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি।

যখন তুরস্ক অত্যাধুনিক আলতাই ট্যাংক, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, টি-১২৯ এটাক হেলিকপ্টার বানিয়ে নিজের সক্ষমতা সারাবিশ্বে ঘোষণা করে, তখন আমরা চীন থেকে আমদানি করা পার্টস এসেম্বল করে মোটর সাইকেল বানিয়ে বাহবা কুড়াই।

শক্তিশালী পরাশক্তি রাশিয়ার অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান তুরস্কের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করলে তুরস্ক সেই যুদ্ধবিমানকে মিসাইল ছুঁড়ে ভূপাতিত করে, আর মিয়ানমারের মতো দুর্বল দেশ বারবার আমাদের আকশ সীমা লঙ্ঘন করলেও আমরা আঙ্গুল চুষতে থাকি।

আমেরিকা তুরস্কের পাসপোর্ট বাতিল করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তুরস্ক আমেরিকার ভিসাও বন্ধ করে দেয়, আমেরিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে, আর ভারত আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি সহ সবজায়গায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করলেও আমরা ভারতের চাটুকারিতা করতেই থাকি।

যেখানে তুরস্ক তাদের শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে আমরা “নিজেকে জানো” নামে কোমলমতি বাচ্চাদের যৌন সুড়সুড়ি দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে কনডম তুলে দিয়ে হাতেকলমে এর ব্যবহার শিখাচ্ছি।

ফলে আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি গুরুত্বহীন হাস্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এটা হচ্ছে মুসলিম হয়েও নিজের মূল পরিচয় ভুলে “কাকের ময়ূর সাজার” রোগের জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতেকলমে কনডম ব্যবহার করা শেখা প্রজন্ম দেশকে বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হতে দেখলে নিজেকে বাঁচাতে শত্রুর হাতে কেবল কনডম তুলে দিতেই পারবে। এর বেশী কিছু নয়।